সুনামগঞ্জ শহরের খালগুলো উদ্ধার অপরিহার্য
- আপলোড সময় : ১৮-০৩-২০২৬ ০৪:১০:০০ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৮-০৩-২০২৬ ০৪:১০:০০ পূর্বাহ্ন
সুনামগঞ্জ শহর ও আশপাশের হাওরাঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় খালগুলো একসময় ছিল প্রাণস্রোত । কিন্তু দখল, ভরাট ও অব্যবস্থাপনার কারণে আজ সেই খালগুলোর অনেকটাই হারিয়ে গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে হরিরামপুর খাল পুনঃখননের উদ্যোগ এবং দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালুর ঘোষণা নিঃসন্দেহে একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ।
শহরের গুরুত্বপূর্ণ বড়পাড়া খাল, তেঘরিয়া খাল, কামারখাল, বলাইখালী খাল, নলুয়াখালী খাল, ধোপাখালী খাল ও ঘাবরখালী খালগুলো একসময় বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন, কৃষি সেচ এবং জীববৈচিত্র্যের ধারক হিসেবে কাজ করত - আজ দখল ও দূষণের কারণে কার্যত অকার্যকর। এই খালগুলো পুনরুদ্ধার করা না গেলে ভবিষ্যতে সুনামগঞ্জ শহরকে আরও ভয়াবহ জলাবদ্ধতা, বন্যা ও পরিবেশগত সংকটের মুখোমুখি হতে হবে।
খাল পুনঃখনন শুধু মাটি কাটার প্রকল্প নয়; এটি একটি সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার অংশ হওয়া উচিত। খালগুলো দখলমুক্ত করা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করা - এই তিনটি বিষয় নিশ্চিত না করলে কোনো উদ্যোগই দীর্ঘস্থায়ী হবে না। অতীতে দেখা গেছে, খননের পর যথাযথ তদারকির অভাবে অনেক খাল আবারও দখল হয়ে গেছে।
সরকারের পক্ষ থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণাও এই প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ খাল খনন প্রকল্পগুলোতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে প্রকৃত সুফল জনগণের কাছে পৌঁছাবে না।
একইসঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং নাগরিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। খালগুলো শুধু সরকারি সম্পদ নয় - এগুলো জনজীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই এগুলো রক্ষার দায়িত্বও সবার।
পরিশেষে বলা যায়, সুনামগঞ্জ শহরের খালগুলো উদ্ধার ও পুনরুজ্জীবন শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়; এটি পরিবেশ রক্ষা, কৃষি উন্নয়ন এবং টেকসই নগর ব্যবস্থাপনার জন্য অপরিহার্য। এখন প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা, কার্যকর বাস্তবায়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি। তাহলেই খালগুলো আবারও সুনামগঞ্জের প্রাণ ফিরে পাবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদকীয়